
বঙ্গোপসাগরে আবারও বেড়েছে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য। একের পর এক মাছধরা ট্রলারে হামলা ও ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন জেলেরা। অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে মাছ, জাল ও জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে দস্যুরা। জীবিকার তাগিদে জীবননাশের ঝুঁকি নিয়েই সাগরে যেতে হচ্ছে জেলেদের।
সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট ভোররাতে কুয়াকাটা থেকে দক্ষিণ-পূর্বে গভীর সাগরের খাম্বা বয়া বাতি এলাকায় ‘এফবি মিম’ নামের একটি মাছধরা ট্রলারে হামলা চালায় সশস্ত্র জলদস্যুরা। এ সময় অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে মারধর করা হয়। দস্যুরা প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার মাছ, জাল, জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
হামলায় ট্রলারে থাকা অন্তত ১২ জেলে আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনকে কুয়াকাটা হাসপাতালে এবং গুরুতর আহত মাঝি আইয়ুবকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জেলেদের অভিযোগ, একই সময়ে আরও কয়েকটি মাছধরা ট্রলারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে নতুন করে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
মৎস্যজীবীদের দাবি, উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের তৎপরতা ঠেকাতে আরও কঠোর অভিযান প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা কম থাকায় দস্যুরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
তবে কোস্টগার্ড বলছে, বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে তৎপর হচ্ছে জলদস্যুরা। পটুয়াখালী কোস্টগার্ডের আন্দারমানিক স্টেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলেদের নিরাপত্তায় তারা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
মৎস্য বিভাগও জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একেকটি সমুদ্রগামী ট্রলারে জাল, জ্বালানি তেলসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার মালামাল থাকে। এসব মালামালের পাশাপাশি মাছও লুট করে নেয় দস্যুরা। ফলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঝুঁকিতে থাকছেন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা।